ত্রিফলা কি, কেন এবং কখন খাবেন?


ত্রিফলা কি?

রোগ প্রতিরোধ , বলবৃদ্ধি, অকালবার্ধক্য রোধ , দেহের টক্সিন/ বিষাক্ত বস্তু নিঃসরন , রেচক - মোট কথা শরীর সুস্থ্য রাখার জন্য যা লাগে সব আছে '' ত্রিফলা তে''।

যাদের মনে এই প্রশ্ন। তাদের জন্য বলছি - তিনফলের সমাহারকে ত্রিফলা বলে! এই তিনফল হলো:

১) হরিতকী

২) আমলকি

৩) বহেরা


আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে ত্রিফলা হলো রসায়ন। (রসায়ন কি আর একদিন বলবো)।


আয়ুর্বেদ ফিলোসোফি অনুসারে মানুষের দেহে ত্রিদোষের (বায়ু, পিত্ত ও কফ) ও আমা' র ভারসাম্যহীতার কারনে রোগ হয় । ত্রিফলা ত্রিদোষের ভারসাম্য আনয়ন করে ও আমা নাশক হিসেবে কাজ করে । এভাবে আমাদের দেহকে সুস্থ্য রাখে ।


পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় ত্রিফলার উপর গবেষনা করে আজ ত্রিফলার গুনাবলীর প্রমান করেছেন , যা প্রায় ৩০০০ বছর আগেই আয়ুর্বেদ গবেষকরা আমাদের জানিয়েছেন!


ত্রিফলা কি কি কাজ করে?

  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
  • এন্টি অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।
  • দেহের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
  • রক্তচাপ কমায়।
  • হৃদরোগ কমায়।
  • রক্তে কোলেস্টেরল কমায়।
  • লিভারের রোগ প্রতিরোধ করে ।
  • পিত্ত নিঃসরণ বাড়ায় ।
  • কফ নিঃসরণ করে।
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করে।
  • ওজন হ্রাস করে।
  • এলার্জি কমায় ।
  • উপকারী ফ্যাটি এসিড (HDL)এর পরিমান বাড়ায়.
  • শ্বাসকষ্ট কমায় .
  • দৃষ্টিশক্তি হ্রাস রোধ করে ।
  • রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ায়।
  • অকাল বার্ধক্য রোধ করে ।
  • শুক্রের উৎপাদন বাড়ায় ।
  • যৌন দুর্বলতা দুর করে।
  • আরো অসংখ্য উপকার করে।


খাওয়ার নিয়ম

হরিতকী, বহেরা ও আমলকী কাঁচা ফল সংগ্রহ করুন , শুকিয়ে ফেলুন , বীজ ফেলে দিন এবার সবগুলো সমান অনুপাতে মিশিয়ে গুড়া করুন ( গ্রান্ডারে বাসায় বসেই গুড়া করা যাবে ) । প্রতিদিন সকালে ১ চা চামচ গুড়া একগ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে রাতে ছেকে পানি পান করুন। এভাবে রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেকে পানি পান করুন ।


'' সকল রোগের এক বিধান, দিনে দুবেলা ত্রিফলা খান।''

Post a Comment

Previous Post Next Post